ব্রিটিশ রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে এখনো সম্মানসূচক ভাতা পেয়ে আসছেন ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া কিশোরগঞ্জের আব্দুল মান্নান। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ১০৭ বছর হলেও নিজের বয়স ১১৫ বলে দাবি করেন আব্দুল মান্নান।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দি উপজেলার আজলদী গ্রামের এই সৈনিক অংশ নিয়েছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। যুদ্ধে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে তিনি এখনো রেখে দিয়েছেন তার সেই যুদ্ধের পোশাক এবং সংশ্লিষ্ট কিছু নথিপত্র। যত্ন করে রেখে দেওয়া এই পোশাকে আটকে আছে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন র‍্যাংক ব্যাজ।

১৯৪২ সাল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আব্দুল মান্নান। লাইনে দাঁড়ানো বাকি সব যুবক বুকে ব্রিটিশ অফিসারের থাপ্পড় খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও সোটাং দাড়িয়ে ছিলেন তিনি।

প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর একমাস ট্রেনিং করেছিলেন তিনি। ট্রেনিং চলাকালীন সময়ে বিশেষ দক্ষতার জন্য আব্দুল মান্নান পেয়ে যান ল্যান্স নায়েকের দায়িত্ব। পরবর্তীতে যুদ্ধ জাহাজে করে আটলান্টিক মহাসাগরে দিনরাত ভেসে থাকা, কলম্বো থেকে পাকিস্তান, পুরো ভারতবর্ষ চষে বেড়াতে হয়েছে তাকে। এরপর মিয়ানমারে ক্যাম্প করার পর সংবাদ আসে হিরোশিমায় ঘটে গেছে পৃথিবীর জঘন্যতম পারমাণবিক বোমা হামলা। ক্যাম্পে ভারতীয় সেনাদের রেখে লন্ডন ফিরতে শুরু করে ব্রিটিশ অফিসাররা। আব্দুল মান্নান বলেন, হিরোশিমায় বোমা হামলার পর মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সকল সাদা চামড়ার সৈনিক ভারত থেকে লন্ডন চলে গেছে।

আব্দুল মান্নান আরো বলেন, মূলত হিরোশিমায় বোমা হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তি হয়। এরপর মাত্র ৫শ টাকা হাতে ধরিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। যুদ্ধজয়ের আনন্দ থাকলেও আব্দুল মান্নান পাননি সৈনিক হিসেবে তার প্রাপ্য মূল্যায়ন। এটি নিয়ে তার আক্ষেপের শেষ নেই। ব্রিটিশ রানীর কাছে পর্যন্ত চিঠি লিখেছেন তিনি। পরে ব্রিটিশ হাই কমিশনের মাধ্যমে কিছু টাকা পেয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন তিনি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এত বছর পরেও ব্রিটিশ সরকার ভাতা দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের আব্দুল মান্নানকে। তবে এই ভাতার পরিমাণ একেবারেই নগণ্য।

error: কপি না করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।