স্কলারশীপ নিয়ে যুক্তরাজ্যে পড়তে যাচ্ছে ইরফান । তিনি টেন মিনিট স্কুলের শিক্ষিকা মুনজেরিন শহীদ এর ছাত্র ছিলেন। এই তরুণ এক বার্তায় লিখেছেন, “আমি ইরফান, IELTS-এ 7.5 পেয়ে স্কলারশীপ নিয়ে পড়তে যাচ্ছি University of South Wales, United Kingdom-এ! এবং আমি মুনজেরিন আপুর IELTS কোর্সের একজন ছাত্র। আমার বেড়ে ওঠা টাঙ্গাইল শহরে। ছোটবেলা থেকেই কোডিং-এর প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। সেই সূত্রে জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা হয় আর বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় বিজয়ীও হই। তখন থেকেই মনে ইচ্ছা হয় কোনো একদিন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বিদেশে যাবো। কিন্তু কীভাবে কী করবো তা নিয়ে তখনও ভাবিনি।

২০১৯ সালে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ঢাকায় আসি। ভর্তি হয়ে যাই St. Joseph কলেজে। বেশ ভালোই যাচ্ছিলো কলেজ জীবন, তারপর ২০২০-এর দিকে সারাদেশে যখন লকডাউন শুরু হলো তখন অনেকটা দিশেহারা হয়ে যাই। তখনই মনে মনে ঠিক করি এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে কিছু একটা করতে হবে। তখন থেকেই IELTS এর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা চিন্তা করি। কিন্তু স্কুলে ভালোমতো ইংলিশ প্র‍্যাকটিসের সুযোগ না থাকায় আমার বেসিক ইংলিশে অনেকটা দুর্বলতা ছিল। তাছাড়া সারাদেশে লকডাউন থাকায় ও IELTS- এর কোচিং বেশ ব‍্যয়বহুল হওয়ায় কোনো কোচিং করাও সম্ভব ছিল না তখন। সব মিলিয়ে বুঝে উঠতে পারছিলাম না কীভাবে প্রস্তুতি নিবো।

কিন্তু মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল কিছু একটা করবোই আমি। অনলাইনে রির্সাচ করা শুরু করে দেই। অনেক রির্সোস খুঁজতে খুঁজতে মুনজেরিন আপুর IELTS কোর্সটি চোখে পড়লো। আমি সবসময় মনে করতাম IELTS পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া অনেক ব‍্যয়বহুল। কিন্তু খুব অবাক হয়ে দেখলাম মাত্র ২,৫০০ টাকায় মুনজেরিন আপুর কোর্সটি করা যাবে। অনেকটা কৌতূহলী হয়েই কোর্সটি করা শুরু করি। অনলাইনে IELTS প্রস্তুতি নেওয়া নিয়ে খুব বেশি Confidence ছিলো না কিন্তু কোর্সটি একবার শুরু করে আমার ধারনা ধীরে ধীরে পালটাতে শুরু করে। কোর্সটিতে খুব সুন্দর করে Format ধরে উদাহরণসহ পড়ানো হয়েছে। তাছাড়া প্র‍্যাকটিসের জন‍্য রয়েছে সেগমেন্ট ভিত্তিক ‘Mock Test’। কোর্সটি করতে করতে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়তে থাকে আর মাত্র ২০ দিনের প্রস্তুতি নিয়েই আমার মনে হয় আমি পরীক্ষা দেওয়ার জন‍্য Ready। বিশ্বাস করেন নিজের উপর আত্মবিশ্বাস থাকলে আর একটু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলে যেকোন কঠিন পরীক্ষাও পাশ করা যায়। এই আমিই প্রথম চেষ্টাতেই IELTS-এ 7.5 পাই।

প্রথমে যখন বিদেশ যাওয়া নিয়ে কথা বলতাম বাবা-মা কোনোমতেই রাজি হতেন না। কিন্তু যখন আমি পার্শিয়াল স্কলারশীপসহ যুক্তরাজ্যে পড়ার সুযোগ পাই তখন সবচেয়ে খুশি হয় আমার বাবা-মাই। অবশেষে এতটুকু বলবো স্বপ্ন দেখলে সেই স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করা সম্ভব, শুধু দরকার একটু গোছানো প্রস্তুতি নেওয়ার।”

error: কপি না করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।