জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের ছবি ও কোরআনের ‘বুরুজ’ থিওরি

>> পলাশ মাহমুদ

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ১৩৫০ কোটি বছর আগের ছবি পাঠানোর পর কেউ কেউ বিজ্ঞান ও ধর্মকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। একদল বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারকে পাত্তাই দিচ্ছেন না, আরেকদল ধর্মকে বিজ্ঞানের পায়ের কাছে ফেলতে চায়। দুই দল যখন ঝগড়ায় এরই মধ্যে এবার ভিনগ্রহে পানি ও মেঘের ছবি পাঠিয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। সেখানে নাকি আরেকটা সূর্যও পাওয়া গেছে? এবার তাহলে কী হবে? তর্কাতর্কি না করে আসুন জেনে নেই, আসলেই ধর্মের সঙ্গে মহাকাশ গবেষণার সম্পর্ক কী?
নাসা যে গবেষণা করছে তা করার জন্য কোরাআনেও আদেশ দেওয়া হয়েছে। আপনি একজন খাঁটি মুসলমান হলে আপনার জন্য এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া ফরজ। ‘হে নবী! বলে দাও, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করো।’ (সূরা ইউনুস, আয়াত ১০১)
নাসার মহাকাশ গবেষণায় যা পাওয়া যাচ্ছে তাতে ধর্মের সঙ্গে কোনো সঙ্ঘাত নয়, বরং ধর্মের অগ্রগতি হচ্ছে। ধর্মের বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়গুলো প্রমাণিত হচ্ছে। বিজ্ঞান যে কক্ষপথের কথা বলে তা কোরআনের সুরা জারিয়াতের ৭ নম্বর আয়াতে ‘জাতুল হুবুক’ তথা রাস্তা বা পথবিশিষ্ট শব্দে বলা হয়েছে। ‘সূর্য তার নির্ধারিত পথে (বিজ্ঞান যে কক্ষপথের কথা বলে) ছুটে চলে। চাঁদেরও রয়েছে নির্ধারিত কক্ষপথ। ’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৩৮, ৩৯)
বিজ্ঞান যে তারকা ও গ্যালাক্সির কথা বলে তা কোরআনের ভাষায় ‘কাউকাব’ ও ‘বুরুজ’। ‘আমি দুনিয়ার আকাশ অসংখ্য তারকারাজির (কাউকাব) দ্বারা সুসজ্জিত করেছি।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৬)। ‘যিনি মহাকাশে অসংখ্য গ্যালাক্সি (বুরুজ) স্থাপন করেছেন যাতে সূর্য ও আলোকোজ্জ্বল চন্দ্রও স্থাপন করেছি।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬১)
এই আয়াতটি খেয়াল করেন; ‘যিনি মহাকাশে অসংখ্য গ্যালাক্সি (বুরুজ) স্থাপন করেছেন যাতে সূর্য ও আলোকোজ্জ্বল চন্দ্রও স্থাপন করেছি।’ এখানে বলা হয়েছে, অসংখ্যা বুরুজ বা গ্যালাক্সি আছে এবং সেইসব গ্যালাক্সিতেও সূর্য ও চন্দ্র আছে।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ভিনগ্রহে পানি ও মেঘের ছবি পাঠিয়েছে। এক হাজার আলোকবর্ষ দূরের এক জগৎ। সেখানে সূর্যও আছে। অর্থাৎ কোরআন যে বলেছে, অসংখ্যা গ্যালাক্সি আছে ও সেখানে অসংখ্যা সূর্য আছে তার একটি সূর্য পাওয়া গেল মাত্র। এটি নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের দ্বিতীয় চমক। তাহলে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ সাহেব কোরআনের সত্যতা প্রমাণ করছে নাকি ঝগড়া লাগাচ্ছে?
মহাকাশের সাতটি আসমান বা স্তর রয়েছে। এবং আসমানের দরজার রয়েছে। সেই দরজায় রয়েছে শক্তিশালী পাহারা। সুরা লুকমানের ১০ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘সাত আসমান আমি খুঁটিবিহীন ভাসমান অবস্থায় সৃষ্টি করেছি, যা তোমরা দেখছ। ’ ‘অতঃপর আমি আসমানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখলাম তা শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত।’ (সুরা : জিন, আয়াত : ৮)
মহাকাশ নিয়ে কোরআনে যা বলা হয়েছে বিজ্ঞান তার খুব সামান্যই ছবি তুলতে পেরেছে মাত্র। যেমন, এই অসংখ্যা গ্যালাক্সি, সূর্য, চন্দ্র। প্রকৃতপক্ষে যারা কোরআনের জ্ঞান রাখেন তারা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী টেলিস্কোপের প্রত্যাশা করবেন। কোরআনের বর্ণনার সত্যতা যত মিলবে তারা ততই ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। এখানে বিরোধীতার কিছু নেই।
এবং আল্লাহ এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি। ‘তারা কি নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখে না, আল্লাহ আসমান ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুই যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রুম, আয়াত ৮)
এবং মহাকাশের এই বিশাল সৃষ্টির কোনো পিলার নেই। ‘তার নিদর্শনাবলির অন্যতম হলো, আসমান-জমিন কেবলমাত্র তার আদেশের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। (সুরা : রুম, আয়াত : ২৫)।
অতঃপর একদিন সবকিছু গুটিয়ে যাবে। ‘সেদিন আমি আকাশমণ্ডলী গুটিয়ে নেব যেমন লিখিত কাগজপত্র গুটিয়ে রাখা হয়। ’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৪)
সুতারাং আপনি যদি একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ হন তাহলে আপনাকে তর্কে জড়ানো না, গবেষণা করতে হবে। ‘তারা কি কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না, নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ? (সূরা মুহাম্মদ : ২৪)
কোরআন নিজেই বিজ্ঞান। ‘শপথ বিজ্ঞানময় কুরআনের।’ (৩৬:২) সুতারাং প্রকৃত ধার্মিক কখনো বিজ্ঞান অস্বীকার করতে পারবে না। আমরা চাই মহাকাশ নিয়ে বিজ্ঞান আরো গবেষণা করুক। আরো বহুগুণ শক্তিশালী টেলিস্কোপ তৈরি হোক। মানুষ আকাশের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে যাক। তাহলে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন। তাঁর সৃষ্ট জীব এমন অসম্ভব কৃতিত্ব দেখালে নিশ্চই তিনিই বেশি খুশি হবেন।
লেখক: আরটিভি অনলাইন ইনচার্জ 
error: কপি না করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।