মুখের ভাষায় প্রতিবাদ করতে না পারা বিষয়গুলো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায় সহজেই। বুকের দেশপ্রেম মুখে প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও চলচ্চিত্র বড় ভূমিকা তো রাখতেই পারে। আর তেমনি একটি চলচ্চিত্র ‘ব্ল্যাক ওয়ার’। শেষ দিকে জঙ্গি বাহিনীর প্রধানের একটি সংলাপ আমার খুবই ভালো লেগেছে।

‘এতো প্রযুক্তি ছিল, আর বড়বড় কর্মকর্তা ছিল তবুও কেন তাকে খুজে পেতে এতো সময় লাগলো?’। আমার মনে হয়েছে এটি যেন বাংলাদেশ পুলিশকে একটি ম্যাসেজই দিল। ‘চলচ্চিত্রের শেষ দিকে প্রশংসানীয় সংলাপ যদিও আমি আশা করিনি। প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রের কিছু ম্যাসেজ থাকে আমার মনে হয়েছে এটি অন্যতম ও বড় ম্যাসেজ’। যদিও সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশ পুলিশের যুগান্তকারী ভূমিকা, জীবন বাজি রেখে দেশ রক্ষায় ত্যাগ অন্যতম ম্যাসেজ।

বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাহসী গল্প নির্ভর এই সিনেমায় গল্পের দুর্বলতা কিছুটা অবশ্যই আছে। কোথায় আছে সেটা জানতে সিনেমা দেখতে হবে। তবে আরেফিন শুভ’র চরিত্র যেভাবে নির্মাতা সানি সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ উপস্থাপন করেছে একবারও মনে হয়নি তিনি পুলিশ নয়। পুলিশের চৌকস অফিসার, সাহসী অফিসার হিসেবে দুর্দান্ত অভিনয় করেছে তো বটেই। বিশেষ করে কথা বলার ধরন আর ভয়েজ নজর কাড়ার মতো। মনে হয়েছিল এমন পুলিশ তো আমরা পর্দার বাইরে চাই।

ইরা চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তার নাম জানি না। তবে জানতে হবে। অভিনয়ও দুর্দান্ত ছিল। মনেহচ্ছিল বাস্তবিক নারী পুলিশ অফিসার। তবে দুর্বল ছিল ঐশীর অভিনয়, গণমাধ্যম আর গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে পারেনি নির্মাতা। যদিও গল্পের মূল বিষয় ছিল গণমাধ্যম হ্যাকড। তাসকিন, মিশা সওদাগর আর মনোজের চরিত্রটি জঙ্গি হিসেবে ভালোই ফুটে তুলতে পেরেছেন। গল্পের প্রয়োজনে তারাও সেরাটিই দিয়েছে।

এছাড়া সিনেমার গানগুলো ভালো লেগেছে। মুগ্ধ করেছে সিনেমার ক্যামেরার কাজ৷ সিনেমাটিক শট গুলো অসাধারণ হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর দুর্দান্ত। টেকনিক্যাল পার্ট বিবেচনা করলে ‘মিশন এক্সট্রিম’ থেকে ফার বেটার ‘ব্ল্যাক ওয়ার’ সিনেমা।

আমার মনে হয়, বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়াটারে উচিত সিনেমাটি তাদের বাহিনীর সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিতে। অপরাধ নির্মূলে ও দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধে ভূমিকা রাখবে।

 

  • লিখেছেন, মোশারফ হোসাইন
error: কপি না করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।